এসএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার নতুন নিয়ম ২০২৬
২০২৬ সালে এসএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জ (খাতা পুনঃনিরীক্ষণ) করার নিয়ম সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা হয়েছে। এবার আর টেলিটক সিম থেকে এসএমএস পাঠিয়ে আবেদন করতে হবে না। শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করে আবেদন করতে হবে এবং বিকাশ, নগদ অথবা সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করতে হবে। নিচে ধাপে ধাপে নতুন নিয়মটি সহজভাবে দেখানো হলো।
আরো পড়ুন: এসএসসি পরীক্ষায় কত পেলে পাস?
এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট বোর্ড চ্যালেঞ্জ কিভাবে করবেন?
২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী এসএসসি ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করতে হবে। আবেদন করার ধাপগুলো হলো—
ধাপ ১:
বোর্ড চ্যালেঞ্জের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
ধাপ ২:
আপনার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং বোর্ড নির্বাচন করে Submit বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩:
এবার একটি সচল মোবাইল নম্বর দিন। পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ হলে এই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।
ধাপ ৪:
পরবর্তী পেজে আপনার বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। যেসব বিষয়ে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করতে চান সেগুলো নির্বাচন করুন।
ধাপ ৫:
বিষয় নির্বাচন করার পর "ফি প্রদান করুন" বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৬:
বিকাশ, নগদ অথবা সোনালী সেবা ব্যবহার করে আবেদন ফি পরিশোধ করুন।
ধাপ ৭:
ফি পরিশোধের পর আবার আবেদন পোর্টালে ফিরে এসে "জমা দিন" বাটনে ক্লিক করুন।
এরপর আপনার বোর্ড চ্যালেঞ্জের আবেদন সম্পন্ন হবে।
আরো পড়ুন: এসএসসি পরীক্ষার পাশের হার কত?
এসএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করতে কত টাকা লাগে?
২০২৬ সালে এসএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জ (পুনঃনিরীক্ষণ) করতে প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা ফি দিতে হবে।
যেসব বিষয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আলাদা আবেদন এবং আলাদা ফি দিতে হবে।
ফি পরিশোধ করা যাবে—
- বিকাশ
- নগদ
- সোনালী সেবা
বোর্ড চ্যালেঞ্জ করতে কি টেলিটক সিম লাগে?
না। ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার জন্য টেলিটক সিমের প্রয়োজন নেই।
এখন শিক্ষা বোর্ডের অনলাইন পোর্টালে আবেদন করে বিকাশ, নগদ অথবা সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করেই বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা যায়।
এসএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করতে কী কী লাগবে?
বোর্ড চ্যালেঞ্জ আবেদন করার জন্য প্রয়োজন হবে—
- রোল নম্বর
- রেজিস্ট্রেশন নম্বর
- শিক্ষা বোর্ডের নাম
- একটি সচল মোবাইল নম্বর
- বিকাশ, নগদ অথবা সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধের ব্যবস্থা
আরো পড়ুন: এসএসসি রেজাল্ট দেখার নিয়ম 2026
বোর্ড চ্যালেঞ্জের আবেদন করার সময়সীমা
২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
আবেদন করার পর কি নতুন বিষয় যোগ করা যাবে?
হ্যাঁ। একবার আবেদন জমা দেওয়ার পরও একইভাবে নতুন বিষয় যুক্ত করা যাবে। তবে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
আবেদন পরিবর্তন করা যাবে?
ফি পরিশোধের আগে চাইলে "মুছে ফেলুন" অপশন ব্যবহার করে বিষয় পরিবর্তন করা যাবে।
কিন্তু একবার ফি পরিশোধ হয়ে গেলে আবেদন বাতিল করা যাবে না এবং প্রদত্ত ফি ফেরত দেওয়া হবে না।
ম্যানুয়াল আবেদন করা যাবে?
না। ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ করা হবে না। সব আবেদন অনলাইনের মাধ্যমে করতে হবে।
বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে কি নাম্বার বা পয়েন্ট কমে?
বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে কখনোই আপনার নাম্বার অথবা পয়েন্ট কমবে না। যদি খাতা পুনঃনিরীক্ষণ করে আপনার এসএসসি রেজাল্টের নাম্বার বাড়ানো সম্ভব হয়, তাহলে নাম্বার (পয়েন্ট) বাড়বে, কিন্তু কখনোই কমবে না। তাই যারা বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে রেজাল্ট কমে যাবে সেই ভয়ে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করেননি, তারা দ্রুত বোর্ড চ্যালেঞ্জ করে ফেলুন।
বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে কি পাশ দেওয়া হয়?
বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার পর আপনার খাতা পুনঃনিরীক্ষণ করা হয় এবং দেখা হয় সেখানে কোনো নাম্বার যোগ করতে ভুল হয়েছে কিনা বা কোনো প্রশ্নের উত্তরের বিপরীতে শিক্ষক নাম্বার দিতে ভুল করেছেন কিনা।
যদি খাতা পুনঃনিরীক্ষণ করে দেখা যায় শিক্ষক আপনার খাতা মূল্যায়নের সময় কোনো ভুলের কারণে আপনাকে কম নাম্বার দিয়েছেন, তবে সেই নাম্বারটি যোগ করে দেওয়া হয়। তারপর যদি অতিরিক্ত নাম্বার পেয়ে আপনি পাশ করেন, তাহলে আপনার বোর্ড চ্যালেঞ্জের রেজাল্টে পাশ আসবে।
কিন্তু বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলেই যে রেজাল্ট পরিবর্তন হবে, এমনটি নয়। অনেক ক্ষেত্রে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার পর রেজাল্ট অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়।
বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে কি রেজাল্ট পরিবর্তন হয়?
বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে আপনি যে নাম্বার পেয়েছিলেন, পূর্বে তার চেয়ে বেশি নাম্বার যদি পান, তাহলে রেজাল্ট পরিবর্তন হয়। কিন্তু যদি আপনি অতিরিক্ত কোনো নাম্বার না পান, সেক্ষেত্রে রেজাল্ট অপরিবর্তিত থাকে।
ধরুন আপনি ১-এর ঘ নাম্বার লিখেছেন, কিন্তু শিক্ষক ভুল করে ঘ নাম্বারের রেজাল্ট দিতে ভুলে গিয়েছেন। তখন খাতা পুনঃনিরীক্ষণ করে সেই নাম্বারটা যোগ করে দেওয়া হয়।
এছাড়াও যদি নাম্বার যোগ করতে ভুল হয়ে যায়, তখনও রেজাল্ট পরিবর্তন হয়। ধরুন আপনি কোনো সাবজেক্টে ৭৫ পেয়েছেন, কিন্তু শিক্ষক যোগ করতে ভুল করে ৭৫-এর জায়গায় ৬৫ মার্ক দিয়েছেন। এমন সময় খাতা পুনঃনিরীক্ষণ করে টোটাল ৭৫ নাম্বার করে দেওয়া হয়।
কিন্তু কোনো প্রশ্নের উত্তরে যদি শিক্ষক আপনাকে ১০-এর মধ্যে ৫ দেন, তবে সেই নাম্বার সাধারণত ৫-এর থেকে বৃদ্ধি করা হয় না। শিক্ষক কোনো প্রশ্নের উত্তরের বিপরীতে নাম্বার দিতে ভুলে গেলে অথবা নাম্বার যোগ করার কোনো ভুল হলে তখনই কেবল বোর্ড চ্যালেঞ্জের রেজাল্ট পরিবর্তন হয়।
এসএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জের রেজাল্ট কবে দিবে?
এসএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জ আবেদনের শেষ তারিখ ১৭ আগস্ট। আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এসএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জের রেজাল্ট প্রকাশ করা হবে। কিন্তু শিক্ষা বোর্ড থেকে এখনো বোর্ড চ্যালেঞ্জের ফলাফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। যখন শিক্ষা বোর্ড থেকে তারিখ জানানো হবে আমরা এই পোস্টটি আপডেট করে দেবো।
বোর্ড চ্যালেঞ্জের রেজাল্ট কিভাবে দেখব?
বোর্ড চ্যালেঞ্জের রেজাল্ট দেখার জন্য আপনারা যে শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়েছেন, সেই শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে নোটিশ চেক করতে হবে। বোর্ড চ্যালেঞ্জের রেজাল্ট প্রকাশের পর শিক্ষা বোর্ডগুলো তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে নোটিশ আকারে রেজাল্ট প্রকাশ করে থাকে।
সর্বশেষ কথা
আজ ২০২৬ সালের এসএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার নিয়মসহ বোর্ড চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এই আর্টিকেলে। আপনাদের যদি বোর্ড চ্যালেঞ্জ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকে বা অন্য কিছু জানার থাকে, তবে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা চেষ্টা করব আপনাদের যথাযথ সাহায্য করার জন্য। ধন্যবাদ।
