সৌদি জিয়ারা ভিসা প্রসেসিং ২০২৬ | কি কি কাগজ লাগে, খরচ ও কতদিন সময় লাগে
২০২৬ সালে সৌদি আরবের জিয়ারা ভিসা প্রসেসিং করতে কি কি কাগজ লাগে, ভিসা খরচ কত, কতদিন সময় লাগে এবং আবেদন করার নিয়ম কি — এই বিষয়গুলো নিয়ে আজকের পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
যারা পরিবারের জন্য সৌদি ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা বা জিয়ারা ভিসা করতে চান, তাদের জন্য এই পোস্টটি গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাই সৌদি জিয়ারা ভিসা ২০২৬ সম্পর্কে সঠিক আপডেট তথ্য জানতে সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়তে থাকুন।
আরো পড়ুন: জিয়ারা ভিসা চেক করার নিয়ম ২০২৬
জিয়ারা ভিসা প্রসেসিং খরচ কত ২০২৬
২০২৬ সালে সৌদি আরবের জিয়ারা ভিসা বা ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা প্রসেসিং খরচ নির্ভর করে আপনি কফিলের মাধ্যমে ভিসা করছেন নাকি মক্তবের মাধ্যমে করছেন তার উপর। যদি আপনার কফিল বা কোম্পানি সরাসরি জিয়ারা ভিসা উঠিয়ে দেয়, তাহলে ভিসা ফি বাবদ সাধারণত মাত্র ৩৫ সৌদি রিয়াল খরচ হয়।
তবে অনেক ক্ষেত্রে কফিল ভিসা প্রসেসিং করে দেয় না। তখন সৌদি আরবের বিভিন্ন ছোট-বড় মক্তব বা ভিসা অফিসের মাধ্যমে জিয়ারা ভিসা প্রসেসিং করতে হয়। সেক্ষেত্রে খরচ তুলনামূলক অনেক বেশি হয়ে যায়। সাধারণত মক্তব থেকে সৌদি জিয়ারা ভিসা করতে ৮০০ থেকে ১,৫০০ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
এছাড়া ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য অফিস খরচ বাবদ অতিরিক্ত ৮০ থেকে ১০০ সৌদি রিয়াল দিতে হয়। এই টাকা মূলত ফাইল প্রসেসিং ও অন্যান্য সার্ভিস চার্জ হিসেবে নেওয়া হয়।
সব কাগজপত্র প্রস্তুত হওয়ার পর বাংলাদেশে ঢাকার তাসির সেন্টারে ফাইল জমা দিতে হয়। সেখানে আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। আর ১৮ বছরের বেশি হলে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।
অন্যদিকে সৌদি আরবে যাওয়ার বিমান ভাড়াও মোট খরচের একটি বড় অংশ। বিমান টিকিটের দাম সময় ও সিজনের উপর নির্ভর করে কম-বেশি হয়। বর্তমান বিমান ভাড়া অনুযায়ী — শিশুদের জন্য ৪০ হাজার টাকা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৬০ হাজার টাকা বিমান ভাড়া বাবদ লাগতে পারে (আনুমানিক ধারণা)।
উপরে আমরা সৌদি জিয়ারা ভিসা প্রসেসিং ২০২৬ এর সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি। তবে এই খরচ একজন ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য এবং সময়, এজেন্সি ও বিমান ভাড়ার উপর ভিত্তি করে খরচ কম অথবা বেশি হতে পারে।
সৌদি আরবের জিয়ারা ভিসা (ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা) প্রসেসিং করতে কি কি কাগজ লাগে?
২০২৬ সালে পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরবে আনতে বা সৌদি ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা (জিয়ারা ভিসা) করতে হলে প্রথমে স্পন্সর ব্যক্তির ইকামার মেয়াদ কমপক্ষে ২ মাস বা ৬০ দিন থাকতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীর একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকাও বাধ্যতামূলক।
সৌদি জিয়ারা ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য আবেদনকারীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র প্রয়োজন হয়। সাধারণত ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার জন্য যেসব ডকুমেন্ট লাগে সেগুলো হলো: বৈধ পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ১৮ বছরের নিচে হলে জন্ম নিবন্ধন সনদ, স্ত্রীর ক্ষেত্রে মেরেজ সার্টিফিকেট বা কাবিননামা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এবং ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
সব কাগজপত্র সঠিক ভাবে প্রস্তুত থাকলে দ্রুততম সময়ে সৌদি আরবের জিয়ারা ভিসা প্রসেসিং করা সম্ভব। তাই আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের সকল তথ্য ও মেয়াদ ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আরো পড়ুন: সৌদি আরব ছুটি চেক করার নিয়ম 2026
জিয়ারা ভিসা প্রসেসিং করতে কতদিন সময় লাগে 2026
২০২৬ সালে সৌদি জিয়ারা ভিসা বা ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার ফাইল তাসির সেন্টারে জমা দেওয়ার পর সাধারণত ৩ থেকে ৪ কর্ম দিবস সময় লাগে ভিসা প্রসেসিং সম্পন্ন হতে। তবে বিশেষ কিছু পরিস্থিতি বা অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের কারণে কখনো কখনো সর্বোচ্চ ৭ কর্ম দিবস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ৩ থেকে ৪ কার্যদিবসের মধ্যেই সৌদি জিয়ারা ভিসা রেডি হয়ে যায়। তাই আবেদন করার সময় সব কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা দিলে ভিসা দ্রুত পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ভিসা রেডি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পোস্ট অফিস বা কুরিয়ারের মাধ্যমে হোম ডেলিভারি করে আপনার বাসায় ভিসা পৌঁছে দিবেন।
আরো পড়ুন: সৌদি আরবের নামাজের সময়সূচি ২০২৬
জিয়ারা ভিসা প্রসেসিং কিভাবে করে ২০২৬
২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী সৌদি জিয়ারা ভিসা বা ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা প্রসেসিং করতে প্রথমে স্পন্সর ব্যক্তির ইকামা এবং পাসপোর্টের পিডিএফ কপি লাগবে। তবে ইকামার মেয়াদ অবশ্যই সর্বনিম্ন ২ মাস বা ৬০ দিন থাকতে হবে।
এরপর যাদের জন্য জিয়ারা ভিসা আবেদন করা হবে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে হবে। সাধারণত যেসব ডকুমেন্ট লাগে সেগুলো হলো: বৈধ পাসপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, স্ত্রীর ক্ষেত্রে কাবিননামা বা মেরেজ সার্টিফিকেট এবং ১৮ বছরের নিচে হলে জন্ম নিবন্ধন সনদ।
সব কাগজপত্র প্রস্তুত হয়ে গেলে অনলাইনে জিয়ারা ভিসার আবেদন করতে হয়। আবেদন করার জন্য আপনারা চাইলে বিশ্বস্ত কোনো ট্রাভেল এজেন্সি বা মক্তবের সাহায্য নিতে পারেন।
অনলাইন আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর ভিসা চেম্বার করতে হয়। যদি কফিলের মাধ্যমে ভিসা চেম্বার করানো যায়, তাহলে খরচ মাত্র ৩৫ সৌদি রিয়াল হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে কফিল ভিসা চেম্বার করে দেয় না। তখন সৌদি আরবের বিভিন্ন মক্তব থেকে ভিসা প্রসেসিং করাতে হয়। বর্তমানে মক্তব থেকে জিয়ারা ভিসা চেম্বার করাতে প্রায় ৮০০ থেকে ১,৫০০ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
ভিসা চেম্বার সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশের ঢাকার তাসির সেন্টারে ফাইল জমা দিতে হয়। সেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে মোট খরচ সাধারণত ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং ১৮ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
ফাইল জমা দেওয়ার পর সাধারণত ৩ থেকে ৪ কর্ম দিবসের মধ্যে সৌদি জিয়ারা ভিসা প্রসেসিং সম্পন্ন হয়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ ৭ কর্ম দিবস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
একবার ভিসা হাতে পাওয়ার পর বিমানের টিকিট কেটে সহজেই সৌদি আরবে যাওয়া যায়। বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের বিমান ভাড়া আনুমানিক ৬০ হাজার টাকা এবং শিশুদের জন্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।
জিয়ারা ভিসার মাধ্যমে সৌদি আরবে কতদিন থাকা যায় বা মেয়াদ কতদিন?
২০২৬ সালে সৌদি জিয়ারা ভিসা বা ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার মেয়াদ সাধারণত ২ মাস (৬০ দিন), ৩ মাস (৯০ দিন) এবং ১ বছর (৩৬৫ দিন) হয়ে থাকে। এর মধ্যে ৬০ দিন ও ৯০ দিনের ভিসাগুলো সাধারণত সিঙ্গেল এন্ট্রি এবং ১ বছরের ভিসা মাল্টিপল এন্ট্রি ক্যাটাগরির হয়ে থাকে।
সিঙ্গেল এন্ট্রি জিয়ারা ভিসার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি মাত্র একবার সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন এবং নির্ধারিত ৬০ বা ৯০ দিন অবস্থান করতে পারবেন। অন্যদিকে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা থাকলে ১ বছরের মধ্যে একাধিকবার একই ভিসা ব্যবহার করে সৌদি আরবে যেতে পারেন।
তবে বর্তমানে সৌদি আরব থেকে মাল্টিপল এন্ট্রি জিয়ারা ভিসা খুব কম ইস্যু করা হচ্ছে। বেশিরভাগ আবেদনকারীই এখন ৬০ দিন অথবা ৯০ দিনের সিঙ্গেল এন্ট্রি ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা পেয়ে থাকেন।
জিয়ারা ভিসা কি বন্ধ?
বর্তমানে সৌদি আরবের জিয়ারা ভিসা (ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা) সম্পূর্ণভাবে চালু রয়েছে। তাই যারা জানতে চাচ্ছেন সৌদি জিয়ারা ভিসা এখন বন্ধ কিনা, তাদের জন্য বলছি — বর্তমানে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চালু আছে।
তবে জিয়ারা ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীর সব কাগজপত্র সঠিক এবং আপডেট থাকতে হবে। বিশেষ করে ইকামার মেয়াদ, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ঠিক থাকলে সাধারণত ভিসা প্রসেসিংয়ে কোনো সমস্যা হয় না।
আরো পড়ুন: সৌদি জরিমানা চেক করার নিয়ম ২০২৬
জিয়ারা ভিসা মানে কি
জিয়ারা ভিসা হলো সৌদি আরবের একটি ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা তাদের স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৌদি আরবে আনতে পারেন।
এই ভিসাকে সাধারণত 'সৌদি ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা' বলা হয়। জিয়ারা ভিসার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবে সাময়িকভাবে অবস্থান করতে পারলেও চাকরি করতে পারেন না! সাধারণত ৬০ দিন, ৯০ দিন অথবা ১ বছরের মেয়াদে জিয়ারা ভিসা ইস্যু করা হয়ে থাকে।
জিয়ারা ভিসা দেখতে কেমন
উপরে আপনারা যে ছবিটি দেখছেন সেটি সৌদি আরবের জিয়ারা ভিসা বা ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার ছবি। জিয়ারা ভিসা দেখতে উপরের ছবির মত হয়ে থাকে। তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার কারণে আমরা ছবির কিছু অংশ ঝাপসা করে দিয়েছি।
ভিসার বাম পাশের উপরের অংশে আবেদনকারীর ছবি থাকে। আর উপরের ডান পাশে ভিসা ইস্যুর তারিখ, মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ এবং কত দিনের জন্য ভিসা অনুমোদিত হয়েছে তা উল্লেখ করা থাকে।
এছাড়াও ভিসার ধরন, এন্ট্রি টাইপ (সিঙ্গেল বা মাল্টিপল এন্ট্রি), পাসপোর্ট নাম্বার, ভিসা ফি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংযুক্ত থাকে এই ভিসায়। তাই ভিসা হাতে পাওয়ার পর এসব তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
আরো পড়ুন: সৌদি আরব থেকে কত গ্রাম স্বর্ণ নেওয়া যায় বাংলাদেশে ২০২৬ | বিদেশ থেকে স্বর্ণ আনার নিয়ম 2026
সর্বশেষ কথা
আজকের এই আর্টিকেলে ২০২৬ সালের সৌদি জিয়ারা ভিসা প্রসেসিং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এখানে জিয়ারা ভিসা করতে কি কি কাগজ লাগে, মোট খরচ কত, কতদিন সময় লাগে, ভিসার মেয়াদ এবং আবেদন করার নিয়ম সহজভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
আশা করি এই পোস্ট থেকে আপনারা সৌদি ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা বা জিয়ারা ভিসা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পেরেছেন। এরপরও যদি জিয়ারা ভিসা সম্পর্কিত কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ।
আরো পড়ুন: সৌদি আরবের নেকলেস ডিজাইন ২০২৬

